মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ব্যতিক্রম প্রসঙ্গ: প্রাচীন ও আদিম মানুষের জীবন কথা ।

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা ভাবে বিভিন্ন পরিবেশের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকে আছি । আমরা আমাদের আজকের অবস্থানের আদি ইতিহাস জানিনা । অনেকে আমাদের বাবা কিংবা দদাদের আমলে ঘটে যাওয়া বিশেষ আর্থ সামাজিক চিত্রের কথা বলতে পারিনা । আর আমরা আজকে য আধুনিকতা পেয়েছি তার অবদান কে রেখেছে বা কিভাবে এই আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটল তা আজও আমাদের অজানা । আমি আমাদের এই এলাকার ১০০ বছর আগের জীবন চিত্র কেমন ছিল তা আজ একটি বিশেষ ভাবে তুলে এনেছি যা আপনাদের সমীপে জানাতে চাই ।

নাম  মো: ফছির উদ্দিন , বাস  ১ নং গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে জিয়াপাড়া গ্রামে । পিতার নাম ঘেটু মন্ডল । মাতার নাম কছিমমন বেওয়া । জন্ম ১৩০০ বাংলা সালের ৩শরা জৈষ্ঠ রোজ শুক্রবার । বর্তমান বয়স ১২০ বছর । বয়সের ভারে অনেকটা নিজেকে এখনও সামলে নিতে পারেন । চলতে পারেন লাঠি না নিয়েই । বলতে পারেন কোন জড়তা ছাড়াই  । দেখতে পান  অন্ধকারেও , প্রয়োজন হয়না কোন আলাদা মানুষের সহযোগীতা ।আল্লাহর অশেষ কৃপায় এখনও তিনি নিজেকে অনেকটা সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন গল্প কথায় । আর তার মুখের কথা যেন সবার কাছে অবাক বিষ্ময়ের মতো । হাজারো অজানা কথা যেন তার ঝুলিতে রয়েছে কম্পিউটারের মেমরীর মতো সাজনো গুছানো । একটু খানি ইচ্ছার বহি:প্রকাশ ঘটলেই তিনি শুরু করেন তার বাল্য জীবনের নানা স্মৃতি বিজড়িত কথা যা আপনাকে এক মুহুর্তের জন্য নিয়ে যাবে কল্প কাহিনীর দেশে । আপনার কাছে তার মুখের ভাষ্য মেনে হবে কল্প কাহিনী কিন্ত তিনি যা বলছেন তা সম্পুর্ন সত্য ও সঠিক ।

আসুন জেনে নেই তার মুখের কিছু কথা যা আমার লেখায় বানিরুপ লাভ করেছে ।

আচ্ছা দাদু আপনার সময় আমদের এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন ছিল ?

আর বলিস না ভাইি আমি যখন খুব ছোট তখন আমাদের এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ । এই গ্রামের যে রাস্তাটা দেখছিস তা ছিল একটা ডাড়া বা খাল। এদিক দিয়ে পালতোলা নৌকা যেত । আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যেত মালবাহি সব নৌকা । আমরা আমদের বাড়িতে বসে যখন সকালের খাবার খাই তখন বানিয়ারা নৌকা নিয়ে এদিক দিয়ে যেতো আর আমদের দিকে তাকিয়ে থাকতো । আমার ভয়ে আমদের বাড়ি হতে বাহির হতাম না । সারা বছর এই ডাড়াতে পানি থাকতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে আরও পানি বেড়ে যেতো ।  পানির স্রোতে ভেসে যেতো এ গ্রাম ও গ্রাম । পানির স্রোতে ভেসে যেত বিভিন্ন  পশুপাখির মৃতদেহ । কখনও কখনও আবার মানুষের লাশও ভেসে আসতো। কোন মানুষের যদি নৌকা না থাকতো তবে তার বিপদের শেষ থাকতো না । এমনকি নৌকা না থাকলে সে বাড়িতে কেই মেয়ে বিয়ে দিতো না আবার ছেলেকেউ বিয়ে দিতো  না । মোটকথা তখন নৌকা ছিল একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম । এই গ্রামে শুধু নয়, এই এলাকার প্রায় সব গ্রামেই এই নিয়ম ছিল চিরাচরিত ।

কিন্ত আজ এই গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে এক সুদীর্ঘ রাস্তা যার অর্ধেকটা পাকা করা হয়েছে । আজ আর এই গ্রামের মানুষকে নৌকার উপর নির্ভর করতে হয় না।যে পথে চলতো পালতোলা নৌকা  এখন এই পথেই চলে ইঞ্জিনচালিত গাড়ি । মানুষ আর আজকে কারও জন্য মুখাপেক্ষি নয় । দিন বদলে গেছে । মানুষ অনেকটা  ভুলে গেছে নৌকার কথা । আমদের গ্রামে একজনমাত্র এখনও নৌকা তৈরী ও ব্যবহার করেন তিনি হলেন মো: আজগর আলী যিনি গ্রামের অন্যতম আদিম ব্যক্তি ।  

 আচ্ছা দাদু আপনার আমলে হাট বাজর কেমন ছিল আর কেমন ছিল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম ও মান ?

আরে দাদা বললে কথা বিশ্বাস করবি তো্ ?

আমার সময়  আমার আব্বা গেটু মোল্লা ধান,চাল,গম,জব, ইত্যাদি ইত্যাদির ব্যবসা করতো । বিভিন্ন হাট থেকে কিনে এন বিক্রী করতো আমাদের এই এলাকার হাটে ও বাজারে । ঐ সময় ২ পয়সায় একমন ধান পাওয়া যেত । আমার আব্বা এগুলো কিনে আনতো ১ পয়সা দামে আর বিক্রী করতো ২ থেকে সোয়া ২ পয়সা দামে । আমার আব্বা বহু বছর এই ব্যবসা করেছেন । আর আমদের সময় হঠাত চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল । ২ পয়সা থেকে ৮ পয়সা লাগলে আমার দাদা বেহুস হয়ে গিয়েছিলেন । মানুষ সবাই হায় হায় আরম্ভ করে দিল । সবার মুখে মুখে তখন একটাই বুলি ‘‘আর বেচে থাকা যাবেনা’’ । তার ঠিক কিছুদিন পরেই ঘটে গেল একটা মহা প্রয়লংকারী দূর্ভিক্ষ । এত প্রায় হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল । একবার আমদের এলাকায় ।


Share with :

Facebook Twitter